শিক্ষা ও বৈষম্য

গ্রাম-শহরের বৈষম্য বাড়ছে শিক্ষায়ও

বাংলাদেশের শিক্ষা
বাংলাদেশের শিক্ষা

অনিশ্চিত: এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এই ধরনের রেজাল্ট উৎসাহিত করে সবাইকে। কিন্তু একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে, শহরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাচ্ছে দুর্দম গতিতে, ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে গ্রামের শিক্ষার্থীরা।

মেধা থাকলেই আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না, যদি না সেটিকে পরিচর্যা করা হয়। এই পরিচর্যার দায়িত্ব একদিকে যেমন স্কুলের, অন্যদিকে বাড়িরও। স্কুলের দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে বিকশিত করে তোলা এবং পরিবারের দায়িত্ব মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীর বস্তুগত চাহিদা পূরণ করা। শহরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আছে এই দুটি দিক থেকেই। গ্রাম ও শহরের মানুষের আয়বৈষম্য এতোটাই বেশি যে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই শহরের শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত পুষ্টি, ভালো স্কুল, শিক্ষক ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এগুলো কল্পনাই করতে পারে না। রাজধানী ঢাকার নামিদামি স্কুল তো বটেই, রেজাল্টের দিক থেকে সাধারণ মানের স্কুলের একজন শিক্ষার্থীও নবম শ্রেণীতে ওঠার পর চার-পাঁচ জন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে। মফস্বল শহরগুলোতে এ ট্রেন্ড কিছুটা চালু হলেও গ্রামে তা এখনো বিলাসিতার পর্যায়ে।

অন্য অনেক কিছুর মতোই শিক্ষা এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। সব বিষয়কেই পণ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার মানসিকতা বেড়েছে আমাদের মধ্যে। শিক্ষাকে মনে করা হয় শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে। এই ‘শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ’ শব্দদুটি যদি কেবল উৎসাহব্যঞ্জক শব্দ হিসেবেই ধরা হতো, তাহলে হয়তো গ্রামের এমন করুণ চিত্র দেখা যেতো না। আগে যেমন শহরের পাশাপাশি গ্রামের স্কুল থেকে প্রচুর সংখ্যক কৃতি শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসতো, এখন আর তেমনটি হচ্ছে না। কারণ গ্রামে এখন শিক্ষার পেছনে ‘বিনিয়োগ’ হচ্ছে না। বাজার অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষাকে যদি কেবল বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারী চাইবে যে কোনোভাবে হোক বিনিয়োগ তুলে আনতে। আর যেহেতু শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্রই এখন মূল বিনিয়োগকারীর ভূমিকা পালন করছে, তাই শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষ স্তর থেকে শুরু করে একেবারে গোড়া পর্যন্তই শিক্ষা যে ক্রমাগত পণ্যে পরিণত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে

লেখক: ব্লগার, সামহোয়্যারইনব্লগ।

লেখক সম্পর্কে

রেজাউল হক

সম্পাদক বাংলাদেশের শিক্ষা

এই লেখাটি সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত। মূল লেখার পরিচিত লেখার নিচে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন