পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা

পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে আরও গভীর ভাবনার প্রয়োজন

পাবলিক পরীক্ষা
লিখেছেন গৌতম রায়

এসএসসি ও এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষা দুটোতে দশ-বারোটি করে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতো বিস্তৃত পরিসরের দুটো পাবলিক পরীক্ষা থেকে শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারার কথা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এই দুটো পরীক্ষার ফলকে যতোটুকু গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত, ততোটা গুরুত্ব পরীক্ষা দুটো পাচ্ছে না।

উদাহরণস্বরূপ, এইচএসসির পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ পরীক্ষাগুলো হয় এক ঘণ্টার। পাবলিক পরীক্ষাসমূহে শিক্ষার্থীরা যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দিয়ে তাদের যোগ্যতা দেখিয়েছে ইতোমধ্যে, সেখানে এই এক ঘণ্টার বাড়তি পরীক্ষা কেন? তার মানে কি এই— বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাবলিক পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করতে পারছে না? ফলে শিক্ষার্থীরা আদৌ যোগ্য কিনা বা কতোটুকু যোগ্য সেটি নির্ধারণের জন্যই কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা বাছাই করছে?

প্রশ্নটি এভাবে উঠতো না যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিন্ন কোনো বিষয়বস্তুর মাধ্যমে বা ভিন্ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের যাচাই করতো। সদ্য শেষ হওয়া এইচএসসির পাঠ্যসূচি থেকেই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়!


তার মানে কি এই— বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাবলিক পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করতে পারছে না? ফলে শিক্ষার্থীরা আদৌ যোগ্য কিনা বা কতোটুকু যোগ্য সেটি নির্ধারণের জন্যই কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা বাছাই করছে?


প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব চাহিদা বা প্রয়োজনানুসারে আলাদা পরীক্ষা নিতেই পারে। কিন্তু এক ঘণ্টার পরীক্ষা দ্বারা শিক্ষার্থীদের যাচাই করা কতোটুকু সম্ভব? বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষা থেকে আয় করে বলে ভর্তি পরীক্ষা টিকে আছে— অনেকের মনে হওয়া প্রচলিত ধারণটিকে আপাতত সরিয়ে মানের প্রসঙ্গটি যদি সামনে রাখি, তাহলে প্রশ্ন আসে— বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করছে না?

বাংলাদেশের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নে উক্ত দুটো প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি; কারণ দেশের পাবলিক পরীক্ষার মান ও অন্য কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দীর্ঘদিনের। একটি স্তরের মূল্যায়ন ব্যবস্থা সুনিপুণ হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পরবর্তী স্তরগুলোতে পড়ে। সে-হিসেবে পাবলিক পরীক্ষাসমূহের মূল্যায়ন পদ্ধতি ঠিকমতো কাজ করলে এর প্রভাব উচ্চ শিক্ষাস্তরে পড়বে।

এসএসসি ও এইচএসসির মতো বড় আঙ্গিকের মূল্যায়নে এতোগুলো পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা— এ প্রশ্নও দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি পরীক্ষার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তারপরও শিক্ষার্থীদের যে-সংখ্যক পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, এর পরিমাণও কম নয়। পরীক্ষার দৈর্ঘ্যও তো কম নয়! শিক্ষার একপর্যায়ে এসে শিক্ষার্থীরা কতোটুকু শিখেছে বা জেনেছে, তা অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হয়; কিন্তু মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে হতে হবে নির্দিষ্ট ও সর্বাধিক মানসম্পন্ন।

শিক্ষার্থীরা বছরব্যাপী বা একটি নির্দিষ্ট স্তরে কী শিখবে, তা নির্ধারণ করা আছে। এগুলোকে স্তরভেদে প্রান্তিক যোগ্যতা বা শ্রেণিভিত্তিক শিখন যোগ্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব প্রান্তিক বা শ্রেণিভিত্তিক যোগ্যতাকে ভিত্তি ধরে পাবলিক পরীক্ষাসমূহ নেয়া হয় না। যে পদ্ধতিতে শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, মূল্যায়নে সেই ধারাবাহিকতা থাকে অনুপস্থিত।

অপরদিকে, শিক্ষকরাও যে বিদ্যালয় বা কলেজে প্রান্তিক ও শ্রেণিভিত্তিক যোগ্যতাসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করবেন, সেই প্রক্রিয়াও অনুপস্থিত। কেন্দ্রীভূত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবই এর মূল কারণ। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরেই যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মূল্যায়ন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, এতে গলদ থেকে যাচ্ছে। আর সম্ভবত, এ কারণেই শিক্ষার্থীরা ঠিক কী শিখছে, তার তুলনামূলক চিত্র পাওয়া কঠিন।

বর্তমান পাবলিক পরীক্ষাসমূহ যেভাবে নেওয়া হচ্ছে, তাতে প্রাথমিক থেকে এইচএসসি সবক্ষেত্রেই জিপিএ ৫-এর উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জিপিএ ৫-এর প্রসারের সঙ্গে শিক্ষার মানের সম্পর্কের জায়গাটিতে তাই একপ্রকার অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করেন, জিপিএ ৫-এর হার যেভাবে বেড়েছে, শিক্ষার মান ততোটা বাড়েনি।

জিপিএ ৫-এর উর্ধ্বগতি ও শিক্ষার মান সমান্তরালে থাকলে, হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে দ্বিতীয় চিন্তা করতে বাধ্য হতো। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের সত্যিকার মেধা ফুটিয়ে তুলতে পারলে ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যেতে পারে। ফুরিয়ে না গেলেও পরিসর ও পদ্ধতি ভিন্ন হতে বাধ্য।

মনে রাখা দরকার, এক ঘণ্টার পরীক্ষার দ্বারা একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। বলা যায়, সমমানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মূলত কাদের বাদ দিতে হবে, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে আয়োজনই করে থাকে।

পাবলিক পরীক্ষাসমূহের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা এবং একে পরবর্তী স্তরের জন্য কাজে না লাগানোর দুটো বিষয়কেই বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া বর্তমানে যেভাবে পাবলিক পরীক্ষার খাতা দেখা হচ্ছে, তাও প্রশ্নবিদ্ধ।

পরীক্ষা পর দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে সব পাবলিক পরীক্ষার। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু দ্রুততা নিশ্চিত করতে গিয়ে মানের সাযুজ্য রাখা সম্ভব হচ্ছে কিনা, সেটিও তদারকি আওতায় আনা প্রয়োজন।


কয়েকটি পরীক্ষায় সব যোগ্যতা পরিমাপ সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন মূল্যায়নের কিছু ধাপ বিদ্যালয় বা কলেজ পর্যায়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় এবং এই মূল্যায়নের ফল পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ফলের সঙ্গে যোগ করা যাবে।


সম্প্রতি একটি দৈনিক পাবলিক পরীক্ষায় নম্বর গণনায় প্রচুর ভুল হচ্ছে বলে জানিয়েছে। তাদের দেয়া হিসাব অনুসারে, একজন পরীক্ষক ১৫ দিনে গড়ে ২৫০-৩০০ খাতা দেখেন। অর্থাৎ দিনপ্রতি এ হিসাব হয় গড়ে প্রায় ২০টি। শুধু খাতা দেখাই নয়, খাতা দেখে নম্বর যোগ করা এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য ওএমআর শীটে তোলা সবকিছুই এতে অন্তর্ভুক্ত। খাতা দেখার জন্য শিক্ষকরা বাড়তি সময় পান না; তাদের দৈনন্দিন কাজ বা অফিস করেই বাকি সময়টুকুতে খাতা দেখতে হয়।

সুতরাং এ-হিসেবে একটি খাতার পেছনে শিক্ষকের ৫/৭ মিনিটের, বা সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের বেশি সময় পাওয়ার কথা নয়। একটি পাবলিক পরীক্ষার খাতা ১০ মিনিটে মূল্যায়িত হলে তাতে ভুল থাকাটা স্বাভাবিক। এ পদ্ধতিতে মান নিশ্চিত করে খাতা দেখা কঠিন বা অসম্ভব।

ফলে প্রতি বছর উত্তরপত্রে প্রচুর ভুল থাকে। এমনকি পরীক্ষক প্রতিটি প্রশ্নে ঠিকমতো নম্বর দিলেও যোগ-বিয়োগের ভুলে নম্বরের হেরফের হয়। শিক্ষককে যখন অস্বাভাবিক দ্রুততার কারণে যে ভ্রান্তি হচ্ছে এবং এর ফলে পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেটি কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারছেন?

পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পুরো পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন, এদেশের পাবলিক পরীক্ষা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিশাল কর্মযজ্ঞ মানসম্পন্নভাবে শেষ হতে বিশাল ও বিশেষায়িত পদ্ধতি দাবি করে। পাবলিক পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতিকে আরও মানসম্পন্ন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রথমত, শিক্ষার্থী কী শিখবে তা পরিমাপের জন্য প্রান্তিক যোগ্যতা রয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাসমূহ যেন শুধু সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কাজটি কঠিন, কারণ কয়েকটি পরীক্ষায় সব যোগ্যতা পরিমাপ সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন মূল্যায়নের কিছু ধাপ বিদ্যালয় বা কলেজ পর্যায়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় এবং এই মূল্যায়নের ফল পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ফলের সঙ্গে যোগ করা যাবে।

দ্বিতীয়ত, দুটো পরীক্ষার মধ্যে বিরতি কমিয়ে আনা প্রয়োজন। তবে এসব বিষয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে। একই দিনে দুটো পরীক্ষা দেওয়ার নজির এদেশে রয়েছে। পরীক্ষার অর্থ এই নয় যে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের দুই বা তিন দিন পুরো প্রস্তুতি নিয়ে তারপর পরীক্ষা দিবে। বছরভর ঠিকমতো গড়ে তোলা হলে একই দিনে একাধিক পরীক্ষা দেয়া কঠিন হবে না। তিন ঘণ্টার পরীক্ষার সময় কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় আসা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের পর সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। যেমন, একজন পরীক্ষক ১৫ দিনের মধ্যে খাতা দেখে জমা দিলেও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ করতে সব মিলিয়ে দু’মাসের মতো সময়ের প্রয়োজন হয়।

এক্ষেত্রে প্রথমেই চারটি কাজ করা যেতে পারে।

এক. সংখ্যা বাড়িয়ে এলাকাভিত্তিক প্রধান পরীক্ষকের পদ সৃষ্টি। এতে দূরত্বজনিত কারণে সময় কমানো সম্ভব।

দুই. যারা অভিজ্ঞ পরীক্ষক ও যাদের ভুলভ্রান্তি কমানো হয়, তাদের খাতা প্রধান পরীক্ষকের কাছে পাঠানো বন্ধ করা। প্রধান পরীক্ষক শুধু নতুন পরীক্ষক ও যাদের খাতা দেখা নিয়ে প্রশ্ন আছে তাদেরগুলো পরীক্ষা করবেন।

তিন. ওএমআর শিটে বিভিন্ন সংখ্যা তোলার বদলে সফটওয়্যার ব্যবহার করা। একজন শিক্ষক উত্তরপত্র দেখার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত সফটওয়্যারে নম্বর দেয়া শুরু করলে তা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে পরীক্ষককে দেয়া সময় অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব। যথাযথভাবে কোডিং করে খাতা দেখলে দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ সম্ভব।

চার. পরীক্ষকদের খাতা দেখার সময় অন্তত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া। কারণ, এ-সময় তো তিনি রাষ্ট্রের শিক্ষারই ভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।

উপরের পয়েন্টগুলো স্বল্পমেয়াদী সমাধানের জন্য। কিন্তু পাবলিক পরীক্ষার গুণগত মান ও পরিসর নিয়ে প্রচুর ভাবনার সুযোগ রয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাকে এমন পর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন যার ওপর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ দেশবাসী আস্থা রাখতে পারে।


একই মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ন্যাশনাল স্টুডেট অ্যাসেসমেন্ট (এনএসএ)-এর মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা পরিমাণ করে। তখন কিন্তু আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা দেয়। জিপিএ ৫-এর উচ্চহারের সঙ্গে এনএসএ-র ফলাফলের পার্থক্য এতোটাই বেশি যে, এ-থেকে বুঝা যায় পিইসিই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ।


পাশাপাশি এর আদর্শমান এমন হতে হবে যাতে এর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী স্তরের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া সহজতর হয়। আমাদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসিই) প্রচুর শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পাচ্ছে। এই ফল সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি।

অপরদিকে, একই মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ন্যাশনাল স্টুডেট অ্যাসেসমেন্ট (এনএসএ)-এর মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা পরিমাণ করে। তখন কিন্তু আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা দেয়। জিপিএ ৫-এর উচ্চহারের সঙ্গে এনএসএ-র ফলাফলের পার্থক্য এতোটাই বেশি যে, এ-থেকে বুঝা যায় পিইসিই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ।

পাবলিক পরীক্ষার ছোটখাট সংস্কার নিয়মিতই হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্টরা সময়ে সময়ে কাজ করছেন। যথাযথ মূল্যায়নের ফলে একটি স্তরের শিক্ষাব্যবস্থার সত্যিকার অবস্থা কীরূপ, তা সহজেই বুঝা যায়। যেহেতু পাবলিক পরীক্ষাসমূহের ফল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন ধরে, তাই এর বড় ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

লেখক সম্পর্কে

গৌতম রায়

গৌতম রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন