শিক্ষায় তথ্য, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও কম্পিউটার

ব্যয়সাশ্রয়ী স্মার্ট ক্লাশে রাস্পবেরি পাইয়ের ভুমিকা

বাংলাদেশের শিক্ষা - ছোট
বাংলাদেশের শিক্ষা - ছোট
লিখেছেন গৌতম রায়

Raspberry Pi-এর ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা যায় এর দাম আমাদের হাতের নাগালেই। বাংলাদেশে এটির দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মতো। এর সাথে যদি আমরা একটি টেলিভিশনের দাম সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা যোগ করি, তাহলে একটি স্মার্ট ক্লাসরুমের জন্য আমাদের খরচ পড়বে মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা (তবে এ কাজটি পুরনো টেলিভিশন কিনেও করা যায়।

লেখাটি কতোটুকু পছন্দ হয়েছে?

মুশফিকুর রহমান:  পাঠ্যবিষয়কে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান করে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করতে স্মার্ট ক্লাসরুম বর্তমান সময়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্মার্ট ক্লাসরুম সাধারণত গড়ে তোলা হয় কিছু আইসিটি পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে পাঠ্যবিষয়কে ডিজিটাল রূপ দেওয়া। এটি করা হয়ে থাকে উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে, ভিডিও ধারণের মাধ্যমে, শব্দ কিংবা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে। আর এই বিষয়টি নির্ভর করে কী পড়ানো হবে তার ওপরও। যেমন, আমরা যদি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত পড়াতে চাই তাহলে এই বিষয়ে একটি ভিডিও দেখাতে পারি। তাহলে তা শিক্ষার্থীদের মনে দাগ কাটবে।

অর্থাৎ একটি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ এই ধারণাকে আমরা কয়েকটি অংশে বিভক্ত করতে পারি। এর এক অংশে থাকবে কিছু পণ্য। যার মাধ্যমে আমরা কোনো বিষয়কে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করব। অন্য অংশে থাকবে কনটেন্টকে ডিজিটালাইজেশন করা। আরেকটি অংশ থাকবে শিক্ষকদের কনটেন্ট ডিজিটাল করায় সহায়তা ও আইসিটি পণ্যের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

আমরা যদি বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই তাহলে দেখতে পাই, স্মার্ট ক্লাসরুমের একটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আইসিটি পণ্য। একটি স্মার্ট ক্লাসরুম গঠন করতে ন্যূনতম দুটি পণ্যের প্রয়োজন পড়ে। এর একটি হলো কম্পিউটার, আরেকটি হলো প্রজেক্টর বা বড় আকারের মনিটর। আমরা যদি বর্তমান বাজারদর হিসাব করি, তাহলে এই দুইটির দাম দাঁড়ায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তারও বেশি। যা একটি বিদ্যালয়ের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য।

রাস্পবেরি পাই

রাস্পবেরি পাই; ছবিসূত্র: উইকিপিডিয়অ

আমাদের মতো দেশে অর্ধ লক্ষ টাকা অনেক বেশি। তাই বলে কি স্মার্ট ক্লাসরুমের ধারণা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ব? এ প্রসঙ্গে চলে আসে Raspberry Pi Foundation উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের কম্পিউটার Raspberry Pi-এর কথা। যেটা আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে রিলিজ করা হয়।

Raspberry Pi শুধু একটি কম্পিউটার (সিপিইউ)। তবে এটি ব্যবহার করতে গেলে এর সঙ্গে একটি মনিটর, কীবোর্ড ও মাউস যুক্ত করতে হয়। চাইলে এতে ইন্টারনেটও ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এর মনিটর হিসেবে টেলিভিশন ব্যবহার করা যায় (বর্তমান সময়ে প্রায় সবার বাসায় একটি টেলিভিশন আছে। এমনকি চায়ের দোকানেও আমরা টেলিভিশন দেখতে পাই। এই টেলিভিশনে সিডি বা ডিভিডি চালাতে যে RAC কেবল বা তিনটি তিন রংয়ের তার ব্যবহার করি, তা দিয়েই Raspberry Pi-কে সংযুক্ত করা যায়)। Raspberry Pi-এর সাথে যে সব আনুসঙ্গিক পণ্যের দরকার হয়, তা আমাদের হাতের নাগালেই আছে এবং এগুলোর দামও খুব একটা বেশি না। লিনাক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম হওয়ায় এর অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বাড়তি কোনো মূল্যও পরিশোধ করতে  হচ্ছে না কারণ লিনাক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম একটি মুক্ত ও বিনামূল্যে প্রাপ্ত অপারেটিং সিস্টেম। আর অপারেটিং সিস্টেম মুক্ত হওয়ায় আমরা এর পরিবর্তন ও পরিমার্জনও করতে পারছি সহজেই।

Raspberry Pi-এর ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা যায় এর দাম আমাদের হাতের নাগালেই। বাংলাদেশে এটির দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মতো। এর সাথে যদি আমরা একটি টেলিভিশনের দাম সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা যোগ করি, তাহলে একটি স্মার্ট ক্লাসরুমের জন্য আমাদের খরচ পড়বে মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা (তবে এ কাজটি পুরনো টেলিভিশন কিনেও করা যায়। অনেকেই বাসার পুরনো টেলিভিশন কমদামে বিক্রয় করে থাকে। অথবা স্বল্পমূল্যের মনিটর কিনেও আমরা তা ব্যবহার করতে পারি। এছাড়া আজকাল প্রায় সব বাসায়ই টেলিভিশন ব্যবহার করা হয়, তাই চাইলে স্কুলের শিক্ষক তার টেলিভিশনটি এ কাজে ব্যবহার করতে পারেন)। সেক্ষেত্রে এর জন্য খরচ পড়বে খুব বেশি হলে বারো থেকে পনের হাজার টাকা। এই ব্যয় বহন করা একটি বিদ্যালয়ের জন্য তেমন কষ্টকর কোনো বিষয় হবে বলে মনে হয় না।

Raspberry Pi বাংলাদেশে এখনও সহজলভ্য নয়, অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এটি সংগ্রহ করেছে। তবে তা অপ্রতুল। অঙ্কুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কয়েকটি Raspberry Pi সংগ্রহ করেছে, যদিও তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এগুলো তারা ব্যবহার করছে শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। এক্ষেত্রে সরকার সহায়তা করলে অঙ্কুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন Raspberry Pi ব্যবহার করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরিতে ভুমিকা পালন করতে পারবে। সরকারের একটু সহযোগিতা সফল করে দিতে পারে ডিজিটাল হিসাবে বাংলাদেশকে মাথা উচু করে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে।

মুশফিকুর রহমান: প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক, রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রজেক্ট।

লেখাটি কতোটুকু পছন্দ হয়েছে?

লেখক সম্পর্কে

গৌতম রায়

3 মন্তব্য

মন্তব্য লিখুন