শিশুর বিকাশ

যোগাযোগ বৈকল্য: যোগাযোগে অক্ষম করা এক ব্যাধি – পর্ব ৩

যোগাযোগ বৈকল্য; ছবি: webstockpreview
যোগাযোগ বৈকল্য; ছবি: webstockpreview
শামস আল গালিব

যোগাযোগ বৈকল্য বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন পরিচিত রোগ না হলেও উন্নত দেশগুলোতে যোগাযোগ বৈকল্য বা কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডার বহুল প্রচলিত একটি রোগ। যোগাযোগ্য বৈকল্য হচ্ছে এমন এক ব্যাধি যা মানুষের মনের ভাব বিনিময়ের ক্ষমতাকে বিনষ্ট করে।

যোগাযোগ বৈকল্য ও বাংলাদেশ

যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ হলেও বাংলাদেশের মতো দেশে ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে তেমন কোনো কাজ দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইনে বা দেশের প্রতিবন্ধিতার ক্যাটাগরিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা, শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি সহজেই দৃশ্যমান বিষয়াবলীকেই অর্ন্তভুক্ত করা হয় আমাদের দেশে। যোগাযোগ বৈকল্যকে তাই এখন পর্যন্ত কোনো ডিসঅর্ডার বা অস্বাভাবিকতা বলে বিবেচনা করা হয় না। সে-কারণে যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে বাংলাদেশে আক্রান্তের তালিকা, বর্তমান অবস্থান, পরবর্তী লক্ষ্য ও সমস্যার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

আশার কথা হলো, বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে আমাদের দেশেও যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যোগাযোগ বৈকল্য’ নামে স্বতন্ত্র বিভাগ চালু হয়েছে। ২০১৫ সালের পহেলা এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফকে প্রধান করে যোগাযোগ বৈকল্যের দেশের সর্ববৃহৎ গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। মূলত দেশে যেগাযোগ বৈকল্য নিয়ে উচ্চতর পর্যায়ের গবেষণা করা, যোগাযোগ দক্ষতা ও ভাষাগত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা ইত্যাদি কাজের লক্ষ্যে ‘ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডার’ গঠিত হয়। বর্তমানে এ বিষয়ে চার বছরমেয়াদী স্নাতক সম্মান কোর্স চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশে বধিরদের নিয়ে, বাক-প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার মতো কিছু সংগঠন থাকলেও পুরোপুরি যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে কাজ করার জন্য এটি ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

যোগাযোগ বৈকল্য সনাক্তকরণ

যোগাযোগ বৈকল্য ব্যক্তির কথা বলার সময় বা কোনো নির্দেশনা পালন করার সময় প্রকাশ পায়। সেদিক দিয়ে বলতে গেলে আলাদা করে বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্তকরণের প্রয়োজন হয় না । যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা গেলে সাধারণত বাচন ও ভাষা বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকক্ষেত্রে শিশু মনোবিজ্ঞানী বা  শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তারা শিশুর বয়সের সাথে বিকাশের মাইলস্টোন দেখে শিশুর কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডার শনাক্ত করতে পারেন:

  • চিন্তনের মনোবৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ;
  • শিশুর যুক্তি দক্ষতা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া এবং চিন্তাভাবনা পরীক্ষা করার জন্য সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা;
  • শিশু কথা বলার সময় কতোটা ভুল উচ্চারণ করছে এবং কত সময় ধরে করছে তার পরীক্ষা এবং
  • শিশুর বিকাশ বয়সের সাথে কতোটুকু হয়েছে তার পরীক্ষা।

যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ হলেও বাংলাদেশের মতো দেশে ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে তেমন কোনো কাজ দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইনে বা দেশের প্রতিবন্ধিতার ক্যাটাগরিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা, শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি সহজেই দৃশ্যমান বিষয়াবলীকেই অর্ন্তভুক্ত করা হয় আমাদের দেশে।


বাংলাদেশে যোগাযোগ বৈকল্য: আক্রান্ত শিশুর শিক্ষা

বাংলাদেশে যোগাযোগ বৈকল্যকে এখনো আলাদা বিশেষ ধরনের রোগ বলে বিবেচনা করা হয় না। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবন্ধিতার স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে এমন ক্যাটাগরি হাতেগোনা। যেমন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা, বাক ‍ও শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা, অটিস্টিক শিশু ইত্যাদি। যোগাযোগ বৈকল্যের মতো বিষয়গুলোর জন্য আলাদা কোনো শিক্ষাব্যবস্থা বংলাদেশে প্রচলিত নেই।

একজন যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত শিশুর জন্য শিক্ষাগ্রহণ অনেক কষ্টসাধ্য। একজন যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠ অনুধাবন করতে পারে না, শেণিকক্ষে সহপাঠীদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে না, একাকীত্বে ভোগে, নিজের কথা অস্পষ্ট বা জড়িয়ে যাওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে কথা বলা এড়িয়ে চলে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের নির্দেশনাবলী অনুসরণ করতে পারে না বলে অনেক সময় অমনোযোগী শিক্ষার্থী বলে বিবেচিত হয় এবং ক্রমশ অ্যাকাডেমিক কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা বেশি হলে তাকে বাক ও শ্রবণ অক্ষমদের সাথে পাঠদান করানো হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যোগাযোগ বৈকল্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রতিবন্ধিতার প্রকারভেদ। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার বাইরেও আরো অনেক বৈকল্য আছে এই যোগাযোগ বৈকল্যের মধ্যে, যাদের শিক্ষার আলাদা ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনোরুপ ব্যাধি বা অক্ষমতার জন্য কাউকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। যোগাযোগ বৈকল্যও স্পষ্ট একটি ব্যাধি, তাই বাংলদেশে যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণ তাদের সাংবধানিক অধিকার। সেজন্য দেশে যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্তদের সনাক্তকরণ ও যথাযথ শিক্ষাপদ্ধতি প্রচলন অত্যন্ত জরুরি।

যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্তদের প্রতি আমাদের করণীয়

যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজের মনের ভাব প্রকাশে অক্ষমতা থাকে। ফলে, আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের সাথে নিজের মনের আবেগ, অনুভূতি, আশা, আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন। কল্পনা করুন অবস্থাটির কথা যখন আপনি আপনার নিজের সমাজের মধ্যে থেকেও আশপাশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি পুরোপুরি অবলোকন করতে অক্ষম। পাশাপাশি নিজের আবেগ-অনুভূতিও অন্যের কাছে সম্পূর্ণরূপে আপনি প্রকাশ করতে পারেন না।

যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কথা বলার সময় কথার ছন্দ হারিয়ে ফেলে, তোতলামী করতে পারে, বারবার একই শব্দের পুনরাবৃত্তি করে। ফলে আশেপাশের মানুষগুলো অধিকাংশ সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কথা বলতে বা তার কথা শুনতে বিরক্তি প্রকাশ করে। সেজন্য আক্রান্ত ব্যক্তি হীনমন্যতায় ভোগে। কারো সামনে আসতে চায় না। সামাজিক উৎসব, অনুষ্ঠানে নিজেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে। কথা বলার সময় তোতলামি, অস্পষ্ট কথা বলার জন্য বা সহজ কথা বারবার বলার পরও বুঝতে না পারার জন্য আশেপাশের অনেকেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে হাসাহাসি করে।

খেয়াল রাখতে হবে, আক্রান্ত ব্যক্তি ইচ্ছে করে এসব করে না। তার সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তিনি সঠিকভাবে কথা বলতে, শুনতে ও অনুধাবন করতে অপারগ। তার এসবের জন্য মানুষের কাছে যখন নিজেকে ঠাট্টার পাত্র বলে বিবেচিত হয়, তখন মানসিক কষ্টে ভোগে। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর সহযোগিতামূলক মনোভাব একজন ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক মানুষকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশের মানুষ, পরিবার, সমাজকে আগে এই সমস্যাটিকে স্বীকার করে নিতে হবে। কথা বেঁধে যাওয়া বা কথা বলার সময় কথার ছন্দ ঠিক না রাখতে না পারা বা সহজ কথা বারবার শুনেও বুঝতে না পারার বিষয়কে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। আশপাশের মানুষগুলোর কোনোভাবেই তার প্রতি বিরক্তিকর মনোভাব প্রকাশ করা যাবে না। কথা বলার সময় তাকে বারবার উৎসাহ প্রদান করতে হবে, কোনো বিষয় বুঝতে সক্ষম না হলে বিরক্ত না হয়ে ধৈর্য্যসহকারে বেঝানোর চেষ্টা করতে হবে। সামাজিক উৎসবে, আয়োজনে তাকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করেতে হবে।


যোগাযোগ বৈকল্যের লক্ষণ থাকা শিশুদের আমাদের দেশে পাঠে অমনযোগী, বোকা ইত্যাদি বলে বিবেচনা করা হয়। যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন। সকলের সহযোগিতায় যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত ব্যক্তিও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন স্বাভাবিকের মতোই। শুধু প্রয়োজন একটু ভালোবাসা।


যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্তদের প্রতি শিক্ষকের করণীয়

যোগাযোগ বৈকল্য আছে এমন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে আই কনট্যাক্ট বজায় রাখবেন। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠ বুঝতে পারছে কিনা বা শিক্ষার্থীরা পাঠে মনোযোগী কিনা সেদিকে শিক্ষকের অনুধাবন সহজ হবে। তবে অনেক সময় অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় আই-কনট্যাক্ট রাখা সম্ভব হয় না। আবার শিক্ষার্থীরা যদি লেকচার রেকর্ড করার প্রয়োজন বোধ করে, তবে শিক্ষার্থীদের লেকচার রেকর্ড করে রাখার অনুমতি প্রদান করতে হবে।

অনেকক্ষেত্রে শিক্ষক এগুলো পছন্দ করেন না। রেকর্ড করে শুনলে অনেক শিক্ষার্থীদের পাঠ আয়ত্ব করতে সুবিধা হয়। সেজন্য শ্রেণিকক্ষে অডিও/ভিডিও রেকডিংয়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীর যদি সাইন ল্যাংগুয়েজ বা অন্য কোনো দোভাষীর প্রয়োজন হয়, তবে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারপ্রেটার রাখার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষকে যতোটা শিক্ষার্থীবান্ধব করা যায়, ততোটাই কল্যাণকর। সাধারণত যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত শিশুরা শ্রেণিকক্ষে বা শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চায় না। সেক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের করাতে শিক্ষক উদ্বুদ্ধ করবেন এবং অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন। এতে তাদের মধ্যে হীনমন্যতা দূর হবে এবং শিখন গ্রুপের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি হবে।

শিক্ষককে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। অনেকক্ষেত্রে শিক্ষক অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন যা আক্রান্ত শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের অসহযোগিতামূলক আচরণ বা কর্মকাণ্ড কখনোই কাম্য নয়। শিক্ষককে ভালোমানের শ্রোতা হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো ত্রুটিপূর্ণ শব্দ উচ্চারণ আছে কি না বা শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে কষ্ট হয় কি না বা নির্দেশনা পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ভুল করছে কি না, শিক্ষককে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। বাড়ির কাজ ঠিকভাবে করে কি না বা ভুল করে কি না সেদিকে নজর দিতে হবে। ভুল করলে ভুল করার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবেকের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে হবে।

ভাষায় ত্রুটি রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের ক্লাসে কথা বলার সুযোগ প্রদান করতে হবে। এতে তাদের হীনমন্যতা অনেকটাই কমে আসবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যখন পাঠদান করেন, তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করবেন, যদি সুযোগ থাকে। শ্রেণিকক্ষে সহজ কথা বা সহজ ভাষা শিক্ষার্থীরা বুঝতে না পারলে শিক্ষক তাদের তিরষ্কার করেন। এক্ষেত্রে শিক্ষককে সহায়ক ভূমিকায় কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের তিরষ্কার নয়, বরং তাদের উৎসাহিত করতে হবে। অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা বা অক্ষমতা আছে এমন শিক্ষার্থীদের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট বা কর্মকাণ্ডে তাদের যেমন অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা হয়, যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদেরও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা যেতে পারে।

উপসংহার

যোগাযোগ বৈকল্য অন্যান্য অস্বাভাবিকতার মতোই একটি। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটি অপ্রচলিত ব্যাধি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। যোগাযোগ বৈকল্যের লক্ষণ থাকা শিশুদের আমাদের দেশে পাঠে অমনযোগী, বোকা ইত্যাদি বলে বিবেচনা করা হয়। যোগাযোগ বৈকল্য নিয়ে বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন। সকলের সহযোগিতায় যোগাযোগ বৈকল্যে আক্রান্ত ব্যক্তিও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন স্বাভাবিকের মতোই। শুধু প্রয়োজন একটু ভালোবাসা।

লেখক সম্পর্কে

শামস আল গালিব

শামস আল গালিব

শামস আল গালিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে বিএড (সম্মান) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মন্তব্য লিখুন