দক্ষতা ও উন্নয়ন

সাক্ষাৎকার: দরকার সঠিক প্রস্তুতি

সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকার

যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সাক্ষাৎকার। সেখানে সফল হওয়াই চাকরি পাবার নিশ্চয়তা দিতে পারে। তাই যদি আপনাকে সাক্ষাৎকার দেবার জন্য ডাকা হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার এতোদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফল আপনি পেয়েছেন।

এই ডাক পাবার মধ্যে দিয়ে আপনি একজন আবেদনকারী থেকে একজন সফল চাকরিপ্রার্থীতে পরিণত হয়েছেন। এতে আপনি সন্তুষ্টও হতে পারেন আবার কী হবে সাক্ষাৎকার দেবার সময়, সেটি ভেবে খানিকটা আশঙ্কাবোধও করতে পারেন।

বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ মানুষই যখন সাক্ষাৎকার দেবার সংবাদ পায়, কিছুটা উদ্বেগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। সাক্ষাৎকার প্রায়শই স্ট্রেসফুল হয় কারণ সেখানে প্রচুর অনিশ্চয়তা থাকে। মানুষ হিসেবে আমরা এ-ধরনের পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, কারণ এটি এমন পরিস্থিতি যেখানে আমাদের নিয়ন্ত্রণ কম থাকে।

সাক্ষাৎকার সম্পর্কে আমাদের যে সম্ভাব্য উদ্বেগগুলো থাকতে পারে সেগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • আমার কী পরিধান করা উচিত?
  • কে আমার সাক্ষাৎকার নেবেন?
  • আমি সাক্ষাৎকারের সময় মানসিকভাবে ভীত হয়ে যেন না পড়ি, সেটি কীভাবে মোকাবিলা করতে পারি?
  • তারা আমাকে কী ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন?
  • আমার কি তাদের কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা উচিত?

আমাদের এটিও খেয়াল রাখতে হবে, একটি সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অনেকগুলো ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেতে পারি। যেমন, আপনাকে সাক্ষাৎকার দিতে ডাকা হয়েছে তার অর্থ হলো, আপনি একজন প্রার্থী হিসাবে অন্য অনেকের চেয়ে যথেষ্ট ভালো ছিলেন। কাগজে-কলমে নির্বাচকরা বিশ্বাস করেন, আপনি তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করার জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী। তারা শুধু জানতে চান যে, আপনি তাদেরকে বুঝতে সক্ষম হন কিনা?

এটি আপনাকে তাদের সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ করে দেবে এবং আপনি আসলেই এই চাকরিটি করতে চান কিনা তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও আপনাকে তৈরি করে দেবে। আপনি সাক্ষাৎকার দেবার মূল্যবান অভিজ্ঞতা পাবেন যা ভবিষ্যতে কোনো সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, এ-পর্যায়ে, যারা আপনার সাক্ষাৎকার নিতে চাচ্ছেন, তারা আপনাকে ভবিষ্যতের একজন দক্ষ কর্মী হিসাবে বিবেচনা করছেন। তারা আপনাকে ভবিষ্যতের একজন সফল ব্যক্তি হিসাবে দেখতে চান। তাই তারাও আপনার সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা এটিও জানেন যে, সেই মুহূর্তে আপনার নার্ভাস হয়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

মনে রাখবেন, তারা আপনার মতো যোগ্য, প্রাণ-চঞ্চল, হাসিখুশি, আশ্বাসিত প্রার্থীদের সাথে কথা বলার এবং নিয়োগ দেবার অপেক্ষায় আছেন। তারা জানতে চান, আপনি সেই পদের জন্য কতোটুকু যোগ্য, আপনি কতোটুকু নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন। আপনার কাজ হলো, বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিকতা দিয়ে নিজেকে সেখানে প্রকাশ করা এবং তাদেরকে নিজের সম্পর্কে জানানো। আপনার এ-ধরনের আচরণ তাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিতে পারে।

বাস্তবে, আপনার সাক্ষাৎকার নেয়া ব্যক্তিরা হবেন উচ্চ প্রশিক্ষিত, অভিজ্ঞ এবং ভালো বিচারক। আপনি যখন তাদের মুখোমুখি হবেন, আপনার কাজ হবে সেই পরিস্থিতির সাথে নিজেকে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়া। বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার হচ্ছে চ্যালেঞ্জিং এবং আপনার অনুপ্রেরণা, চিন্তাভাবনা এবং যোগাযোগের দক্ষতার প্রমাণ সেখানে প্রদর্শন করতে হবে।

একই সাথে, সেগুলো আপনার কাজের জন্য কেন সঠিক সেটিও সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। আপনি যদি এর জন্য সঠিক প্রস্তুতি নেন, তাহলে আপনাকে দেয়া সুযোগটি থেকে আপনি পুরোপুরি সুবিধা নিতে সক্ষম হবেন। যারা সাক্ষাৎকার নেবেন, তারা অবশ্যই সেই পদে নিয়োগের জন্য একটি মানদণ্ড ঠিক করে রাখবেন।

যারা আপনার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, তারাও মানুষ এবং তারা জানেন আপনি সাক্ষাৎকার দেবার সময় কতোটুকু নার্ভাস হতে পারেন। তাই আপনি উত্তর দেবার সময় যদি সঠিক উত্তর ভুলে যান বা ভুল উত্তর দেন, ভীত হয়ে পড়বেন না। সবসময়ই সাক্ষাৎকার দেবার শুরুতে আপনি নার্ভাস থাকবেন, কিন্তু যতো সময় ধরে সাক্ষাৎকার চলতে থাকবে ততোই আপনার নার্ভাস হবার হার কমতে থাকবে।

সঠিক প্রস্তুতি একটি সফল সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়। তাই কিছু বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে।

  • নিশ্চিত হয়ে নিন যে, কোথায় যেতে হবে এবং সেখানে যেতে কত সময় লাগবে। কমপক্ষে পনের মিনিট আগে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
  • আপনি সেদিন কী পরবেন তা আগেই সিদ্ধান্ত নিন এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন পোশাক পড়ুন।
  • আপনার যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেগুলো রিভিশন করুন। আপনি যে আবেদন ফরম জমা দিয়েছেন সেটির একটি কপি রাখুন এবং পড়ুন। আপনাকে যেসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতে পারে সেগুলো সম্পর্কে ভাবুন।
  • আপনার সিভির একটি অনুলিপি নিন এবং প্রয়োজনে আপনার কাজের উদাহরণগুলো দেখে নিন।
  • আপনি যদি পারেন তবে সাক্ষাৎকারের ধরনটি জেনে নিন, এবং কে কে আপনার সাক্ষাৎকা নেবেন, তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।
  • আপনাকে যদি উপস্থাপনা করতে হয় তাহলে পেন ড্রাইভে সেটি নিয়ে নিন এবং সেটির একটি অনুলিপি নিন।
  • নিজেকে নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন। যে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করতে চাচ্ছেন, সেখানে আপনার ভূমিকা সমন্ধে আরও গভীরভাবে চিন্তা করুন।
  • আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে, অনেক প্রার্থী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে না জেনেই সাক্ষাৎকার দিতে আসবে। তারা এটিও জানার চেষ্টা করে না যে, প্রতিষ্ঠানটি কী কাজ করে এবং কীভাবে কাজ করে। তাই সাক্ষাৎকার দেবার পূর্বে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরেকবার দেখে নিন।
  • আপনি যদি সঠিক প্রস্তুতি নিন এবং আপনার যদি আসলেই সেই কাজের প্রতি আগ্রহ থাকে, তাহলে আপনি ধরে নেবেন, আপনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন এবং এটিই যা আপনি সর্বোচ্চ করতে পারেন।

সংক্ষেপে, যদি আপনাকে কোনও কাজের জন্য সাক্ষাৎকার দিতে ডাকা হয়, তাহলে আপনাকে নিম্মোক্ত বিষয়গুলো জানতে হবে:

  • সংস্থাটি কী ধরনের পরিষেবা বা পণ্য নিয়ে কাজ করে;
  • সংস্থার লক্ষ্য এবং মান কী;
  • আপনি এর মানগুলোর সাথে নিজেকে কীভাবে সমন্বয় করবেন:
  • আপনি এর সংস্কৃতি বুঝতে পারছেন কিনা;
  • সংস্থাটির/ গ্রাহক করা;
  • সংস্থাটির প্রতিযোগী কারা এবং কীভাবে সংস্থাটি তাদের সাথে নিজেকে তুলনা করছে;
  • সংস্থাটিকে নিয়ে যদি সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয় তাহলে সেটি কেন।

এখন আমাদের জানতে হবে নিয়োগকর্তারা আপনার মধ্যে কী কী দক্ষতা আশা করছেন।

যোগাযোগ

  • নিয়োগকর্তারা দেখতে চান আপনি মৌখিক ও লিখিত উভয়ভাবেই স্পষ্টভাবে এবং সংক্ষিপ্তভাবে যোগাযোগ করতে পারেন কিনা।
  • আপনার নিজের বোঝার এবং অন্যের বোঝার জন্য অন্যকে প্রশ্ন করার এবং তাকে শুনতে আপনি আগ্রহী কিনা।
  • যেকোনো জটিল তথ্য সঠিকভাবে অন্যকে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতা আপনার আছে কিনা।

দলবদ্ধভাবে সম্পাদিত কাজ

  • আপনি আপনার সহকর্মীদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন এবং তাদেরকে অনুপ্রেরণা ও সমর্থন করার ক্ষমতা রাখেন কিনা।
  • আপনি সমস্যা সমাধানের সময় অন্যকে পরামর্শ দিতে বা অন্যের কাছে সহায়তা চাইতে ইচ্ছুক কিনা।
  • অন্য সহকর্মীদের পাশাপাশি ভালো এবং উৎপাদনশীল কাজ করার ক্ষমতা আছে কিনা।

সংস্থা ও সময় ব্যবস্থাপনা

  • লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে আপনি সঠিক পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড নির্ধারণ করতে পারেন কিনা।
  • আপনাকে দেয়া লক্ষ্য পূরণে আপনি কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকরভাবে সেটি পরিচালনা করার ক্ষমতা আছে কিনা।
  • আপনি জীবন ও কাজের মধ্যে সন্তোষজনক ভারসাম্য অর্জন করতে পারেন কিনা।

সমস্যা সমাধান

  • আপনার দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য এবং সমস্যা বোঝার ক্ষমতা আছে কিনা।
  • সমস্যাগুলোকে সমাধান করার জন্য সঠিকভাবে সেটাকে মূল্যায়ন এবং সমাধান করার ক্ষমতা আপনার আছে কিনা।

প্রেরণা

  • আপনি কাজ সম্পর্কে উদ্যমী ও উৎসাহী দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করেন কিনা।
  • আপনি প্রতিনিয়ত শিখতে ও জানতে আগ্রহী কিনা এবং নিজের কাজের মূল্যায়ন নিজেই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন কিনা।
  • আপনি যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন তাহলে কি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে আসার মানসিকতা ধারণ করেন কিনা।

নেতৃত্ব

  • আপনার অন্যকে প্রভাবিত করে তার বিশ্বাস ও সমর্থন অর্জন করার ক্ষমতা আছে কিনা।
  • আপনাকে যদি কোনও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার দায়িত্ব আপনি নিতে ইচ্ছুক কিনা।

সৃজনশীলতা এবং নমনীয়তা

  • আপনি সবসময় ভিন্ন মত, ধারণা প্রকাশ করতে বা সমাধান দিতে পারেন কিনা।
  • সময়ের প্রয়োজনে আপনি নিজেকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইচ্ছুক কিনা এবং নিজেকে পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন কিনা।
  • নিজেকে সহজে অন্যের ধারণার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন কিনা।

আত্মবিশ্বাস

  • আপনি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনুভূতি স্পষ্টভাবে, আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং সৌজন্য প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন কিনা।
  • আপনি অন্য একজনের নিজস্ব ক্ষমতা ও ভূমিকাকে মূল্যায়ন করতে জানেন কিনা।
  • আপনি আপনার ধারণাগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন কিনা।

আন্তঃব্যক্তিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক এবং বিশ্ব সচেতনতা

  • আপনি সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সচেতন কিনা এবং অন্যের বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনি এগিয়ে যান কিনা, তাদের অনুভূতি এবং মতামত শোনার মতো আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত কিনা।
  • আপনার অন্যদের সাথে তথ্য সমর্থন, সহায়তা এবং ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা আছে কিনা।
  • আপনার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ ও কাজ করার ক্ষমতা আছে কিনা।

গাণিতিক দক্ষতা

  • আপনি পরিসংখ্যান ও সংখ্যাগত উপাত্ত পর্যলোচনা করতে পারেন কিনা।
  • আপনি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা রাখেন কিনা।
  • আপনি জানেন কিনা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং উপস্থাপন করা হয়।

তথ্য ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা

  • তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় আপনি আত্মবিশ্বাসী কিনা এবং এ-বিষয়ে নতুন কিছু শেখার জন্য আপনি আগ্রহী কিনা।
  • ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নত করতে এবং সমস্যা সমাধান করার জন্য কীভাবে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে তা সনাক্ত করার ক্ষমতা আছে কিনা।
  • আপনি প্রাসঙ্গিক তথ্য কোথায় এবং কীভাবে সন্ধান করতে হবে তা জানেন কিনা।

বাণিজ্যিক সচেতনতা এবং পেশাদারিত্ব

  • আপনি উচ্চমানের গ্রাহক পরিষেবা ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা বুঝেন কিনা।
  • অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা কীভাবে বিভিন্ন সংস্থা ও তাদের পণ্য বা পরিষেবাগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে সে সম্পর্কে আপনি সচেতন কিনা।
  • একটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার ও দায়িত্বশীল হিসাবে আপনার নিজের ভূমিকা কী হবে সেটি আপনি জানেন কিনা।

সবশেষে, নিজেকে দক্ষ হিসাবে গড়ে তুলুন এবং সঠিক প্রস্তুতি নিন। আপনি একদিন সফল হবেন। মনে রাখবেন, সফল তিনিই হন, যিনি ব্যর্থতাকে উপভোগ করতে পারেন। 

ড. গৌতম সাহা: সহযোগী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখাটি কতোটুকু পছন্দ হয়েছে?

Leave a Comment