উচ্চমাধ্যমিক পাস কিংবা গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষার্থীরা কি ইংরেজি শিক্ষার দক্ষতাগুলো অর্জন করেছেন? তারা কি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইংরেজিতে কিছু বলতে পারেন বা লিখতে পারেন? ইংরেজিতে কিছু শুনে বুঝতে পারেন? ইংরেজিতে লেখা কোনো বিষয় থেকে মেসেজ গ্রহণ করতে পারেন? উত্তর সবারই জানা।
অধিকাংশের ক্ষেত্রেই উত্তর হবে একটি বড় ‘না’। দু’চারজন ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থী ছাড়া কেউই পারেন না, যদিও উচ্চমাধ্যমিক এমনকি গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি পড়ে এসেছেন।
এর সমাধান হিসেবে কেউ কেউ এমনসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন যেগুলোর বাস্তবায়ন সহজে সম্ভব নয়। যেমন, অনেকেই বলেন, সব বিদ্যালয়ে ভাষা শেখানোর ল্যাব বানাতে হবে, ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করা শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, বা শিক্ষকদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে। কেউবা আবার বলেন ন্যাটিভ স্পিকারদের নিয়ে এসে ইংরেজি শেখাতে হবে ইত্যাদি।
এর কোনোটিই কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে সহজ কাজ নয়। সব বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার ভাষা শেখানোর ল্যাব বানাতে বলা মানে হচ্ছে দেশে যেন আর কোনো বিভাগ নেই, কাজ নেই। কাজ শিক্ষার্থীদের শুধুই ইংরেজি শেখানো!
দ্বিতীয়ত, মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স পাস করা শিক্ষার্থীরা সেভাবে এখনও শিক্ষকতায়, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে আসছেন না। কলেজ থেকে পাস করা গ্রাজুয়েট যারা শিক্ষকতায় আসছেন, অনন্য ব্যতিক্রম ছাড়া তাদের নিজেদের অবস্থাই করুণ! তারা ইংরেজি পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নত করবেন সেটি ভাবা একটি অবান্তর কাজ। কারণ, আমি দেখেছি তারা দু’চারটি গ্রামারের নিয়ম ও সেগুলোর ওপর কিছু ট্রানস্লেশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর কাজে নেমে পড়েন।
কিছুদিন আগে একটি আর্টিকেলে লিখেছিলাম যে, ইংরেজি শিক্ষার, শেখার বা শেখানোর উদ্দেশ্যের সাথেই তাদের পরিচিতি নেই। তারপর আমাদের পাবলিক পরীক্ষায় ইংরেজিতে যে প্রশ্ন আসে, সেগুলো ইংরেজি ভাষা শিক্ষার্থী জেনেছে কিনা বা জানার চেষ্টা করছে কিনা সে রকম নয়।
শুধু বিচ্ছিন্নভাবে কিছু খুঁটি পোতার চেষ্টা যার ছাদ নেই, বেড়া নেই, ফ্লোর কিছুই ঠিক নেই। সেটি ঘর নয়। উন্মুক্ত জায়গায় কিছু শক্ত কাঠের ছোট ছোট খুঁটি গাড়া অর্থাৎ বিচিছন্নভাবে কিছু গ্রামার জেনে ভিত মজবুত করার চেষ্টায় সবাই ব্যস্ত! ছাদ, বেড়া ইত্যাদি না থাকলে শুধু খুঁটি গেড়ে কি থাকার ঘর বানানো যায়?
সে ঘর তো বাস করার পুরো অনুপযুক্ত! রোদ বৃষ্টিতে সব সময় সেই ঘর আক্রান্ত হয়, কেউ সেখানে বাস করতে পারে না। আমাদের শিক্ষার্থীদের আমরা সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে যে যেভাবেই ইংরেজি পড়াচ্ছি, সেটি হচ্ছে বাক্য কীভাবে লিখতে হবে, কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক ইত্যাদি বিষয়গুলো শুধু আলাদা আলাদা খুঁটি পুতার মতো। ইংরেজি শিক্ষার পুরো একটি ঘর বা দালান বানানোর পরিকল্পনাও নেই, সে ধরনের প্রচেষ্টাও নেই।
কাজেই আমরা সবাই কিন্তু ইংরেজি শিক্ষার বারোটা বাজাতে সহায়তা করছি। তার মধ্যে বেশি বারোটা বাজাচ্ছে বাজারের কিছু গাইড যেগুলোতে পুরো বাংলা অর্থ ও শব্দের উচ্চারণ, অর্থ সবকিছুই দেওয়া আছে, অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের যেন কিছুই করার নেই। ভাষা শেখানোর সব প্রচেষ্টা থেকেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে রাখার পদ্ধতি!
বাজারের ইংরেজি শিক্ষার একটি গাইড যা পুরো সোশ্যাাল মিডিয়ায় অনবরত বাজাচ্ছে যে, শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে পাস করা কত সহজ। পাসের বিভিন্ন পদ্ধতি ও গাইডটির গুণাগুণ নিয়ে বর্ণনা ভর্তি। শিক্ষকদের, অভিভাবকদের এবং শিক্ষার্থীদের গাইডটি কেনো কিনতে হবে কেনো সেসব বিষয় বার বার প্রচার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
“ইংরেজি বইয়ের প্রতিটি লাইন ভেঙ্গে ভেঙ্গে অনুবাদ করে দেয়া, ঠিক শিক্ষক ক্লাসে যেভাবে পড়ান। শিক্ষার্থীদের বুঝাতে যত সহজভাবে অনুবাদ করা সম্ভব তার সবটুকুই আমরা করেছি এই বইয়ে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে সাবলীল ভাষায় সাজিয়ে দিয়েছি আমরা” – এসব বলে আপনারা ইংরেজি শিক্ষার, শেখানোর এবং শেখার যে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন এবং বাজাচ্ছেন, সেটি কি বুঝতে পারছেন?
ইংরেজি শিক্ষার ক্লাসে শিক্ষকদের প্রতিটি শব্দের বাংলা বলে দেওয়া মানে ইংরেজি পড়ানো নয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি করাতে হবে যার মাধ্যমে তারা শব্দ, শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করা নিজেরা আয়ত্ত্ব করে ফেলেবে।
ইংরেজি যারা ব্যক্তিজীবনে বা নিজের কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য পড়েন না, দেশের শিক্ষাক্রমে আছে বলে বিষয়টিতে কোনোরকম পাস করে তাদের পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে হবে, তাদের ক্ষেত্রে সহজ বাংলায় কিছু টিপস দিয়ে সেই বৈতরণী পার হওয়ার জন্য কিছুটা কাজে লাগতে পারে। কিন্তু মূল ইংরেজি শিক্ষার নাম করে পুরো বাংলা বই পড়ানোটা হচ্ছে আফিম কিংবা কোন ধরনের ড্রাগ নেওয়ার সামিল। ড্রাগ নিলে কারুর যেমন আস্তে আস্তে মনে হয় কোনো এক স্বপ্নিল জগতে চলে যাচ্ছে বা গেছে যা আসলে বাস্তব নয়, বরং জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
একইভাবে বাংলা পড়ে পড়ে বইয়ের কোন প্যাসেজ বা গল্প কিছুট বুঝানোর ভান করা হয় অর্থাৎ তার নিজস্ব রিজনিং ফ্যাকাল্টি, অনুধাবন করার স্বাভাবিক দক্ষতা ধীরে ধীরে লোপ পায়। ফলে মূল ইংরেজি পড়ে কখনই নিজে কিছু উদ্ধার করতে পারে না, কারণ কনটেস্ট অনুযায়ী কোন শব্দের অর্থ বিভিন্ন হয় যা কোথাও বাংলা লেখা দেখে পড়লে তার সাথে মিলে না। আর বিভিন্ন কন্টেন্ট, বই ও তথ্য ইংরেজি পড়ে মর্মোদ্ধার করার জন্য ইংরেজি প্রাকটিস করতে হয়।
সেই চর্চাটি যদি বন্ধ করে শুধু পরীক্ষার জন্য কিছু বাংলা প্যাসেজের ও উত্তরের বাংলা পড়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যে ইংরেজি দেখে নিজের সেখান থেকে মর্মোদ্ধার করতে হবে, সেটি পারবে না। কারণ, তাকে পাস করানোর জন্য না হয় বাংলায় সব লিখে দেওয়া হলো, কিন্তু বাস্তব জীবনে কে তাকে সব বাংলা করে দিবে?
বরং ইংরেজি দেখে দেখে ধীরে ধীরে যে বুঝার ক্ষমতা অর্জন করার কথা ছিল সেটি ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এই বাংলায় তথাকথিত স্পোকেন ইংরেজি আর পরীক্ষা পাস করানোর জন্য বাংলায় সব অর্থ আর ট্রানশ্লেসন মানে হচ্ছে ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে বারোটা বাজানো।
ইংরেজি শিক্ষার বিষয়ে গাইডটিতে আরও লিখেছে, “এই এনালাইসিস বইটি থাকলে একজন শিক্ষার্থীর ইংরেজির ভিত্তি খুবই ভালোভাবে মজবুত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ইংরেজি বুঝতে না পারার কারণে প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী পড়াশোনা বিমুখ হয়ে যায়, যা খুবই দুঃখজনক, আমাদের দীর্ঘদিনের পড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে যাতে সহজভাবে ইংরেজি শেখানো যায়, তারই বহিঃপ্রকাশ হলো আমাদের এই এনালাইসিস বইটি”।
ইংরেজি বিষয়টি পড়ানোর কারণ এবং কীভাবে পড়াতে হবে, সেই বিষয়গুলোই অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়, ফলে শিক্ষকরা এমন কথা বলছেন। ইংরেজি শিক্ষার তো না, জগাখিচুড়ি শেখানো হচ্ছে। প্রতিটি শব্দের বাংলা উচ্চারণও আপনারা লিখে দিলেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কী করবে?
একটি ভাষা চর্চা করে করে শিখতে হয়। তারা কি ভাষা শিখছে নাকি আপনাদের বাংরেজিতে তৈরি করা উত্তর দিয়ে খয়রাতির পাস করছে সেটি ভেবে দেখতে হবে। তারা ইংরেজিতে কিছু বলতে পারা, লিখতে পারা, ইংরেজি পড়ে বুঝতে পারা এবং শুনে ইংরেজি বুঝা, এর কোনোটিই কি অর্জন করছে?
“প্রতিটি শব্দের সঠিক উচ্চারণসহ অর্থ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ উল্লেখ থাকায় এটি শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে” – এসব কথা কেনো বলতে যান? শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা মানে কী? ইংরেজি যেসব শব্দ শিক্ষার্থীরা শিখবে তার ব্যবহার জানতে হবে। শুধু বাংলা অর্থ জানলে সেটি এক ধরনের ইনঅ্যাকটিভ ভোকাব্যুলারি।
তারা নিজেরা যদি বাক্য তৈরি করতে না পারে, নিজের লেখা বা বলার ইংরেজিতে যদি সে শব্দগুলো ব্যবহার করতে না পারে, সে শব্দ জানার খুব একটা উপকারিতা নেই। যেমন, আপনি বাংলায় জানলেন যে, ইমপ্লাই অর্থ হচ্ছে আরোপ করা। এই বাংলাটি জানা থাকলে কতোটা উপকার হয় যদি শিক্ষার্থীরা এটি বাক্যে ব্যবহার করতে না পারে? যদি সে এ ধরনের একটি বাক্য বলতে পারে এবং বুঝে ‘সাইলেন্ট ইমপ্রাইজ কনসেন্ট’ এর মানে বুঝতে পারে, তখন তার একটি মূল্য আছে।
“এই গাইডে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বোঝার দক্ষতা বাড়ায়। যে কোন বাক্যের প্রতিটি শব্দের অর্থ জানা থাকলে তা বোঝা সহজ হয়ে যায়। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি এক অনন্য সহায়িকা” – এভাবে দক্ষতা বাড়ায় না, বরং কমায়। বাংলায় জানা মানে এক ধরনের ড্রাগ গ্রহণ করা যা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, খুব আরাম লাগছে, স্বপ্নের জগতে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এটি আসলে ইংরেজি শিক্ষার বারোটা বাজাচ্ছে।
আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী আছে যারা ইংরেজি শিক্ষার, পড়ার, বোঝার সুযোগ পায়নি, অথচ বাধ্যতমূলক বিষয় হিসেবে তাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাদের কাছে ইংরেজি, বাংলা কিংবা গণিতের মতো একটি বিষয় যা পরীক্ষায় উতরে যেতে পারলেই হলো। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোনোরকম ২০ বা ২৫ নম্বর বুঝে না বুঝে বা নকল করে তুলতে পারলেই হলো। বাকিটা পরীক্ষক, সিস্টেমের দয়া – তাদের পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়।
সেই ইংরেজি দিয়ে তাদের নিজেদের কোনো কাজ হয় না, রাষ্ট্রেরও কোনো কাজ হয় না। তাদের পাসের জন্য আপনারা বাংলায় ইংরেজি পড়িয়ে পাসের ব্যবস্থা করেন সেটি মেনে নেয়া যায়, কিন্তু যখন উপরের বড় বড় কথাগুলো বলেন তখনই সমস্যা। আরও সমস্যা যখন ইংরেজি শিক্ষকরা এই কথাগুলো বলেন। তার অর্থ হচ্ছে শিক্ষকদের কাছে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য বা পদ্ধতি পরিষ্কার আছে কিনা?
আমরা ক’দিন আগে দেখলাম সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের ৩৫০ কর্মকর্তা ইংরেজি শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর খবর। যখন মিডিয়ায় একটু নড়াচড়া দিচ্ছিলো, তখন বলা হলো প্রশিক্ষণ বন্ধ। সরকারি কর্মকর্তারা এরকম বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য যান, তবে সেটি ইংরেজি শেখার জন্য নয়।
আমাদের এসব কর্মকর্তা সারাজীবন ইংরেজি পড়েছেন এবং বিসিএস পরীক্ষায় ইংরেজি উতরে এসেছেন, তাদের ইংরেজির দৌড় যাদের দেখার সুযোগ হয়েছে তারা জানেন। ব্যতিক্রম তো আছেই। আবার যারা সরসারি সিএসপি অফিসার ছিলেন তারা যে বিষয়েই পড়াশোনা করেন না কেন, তাদের বলা ও লেখার ইংরেজি দক্ষতা চমৎকার! এসব লেভেলে অফিসারদের শুধু তো কলম পেসা আর ফাইল চালাচালি না, বিদেশের সাথে অনেক কাজ করতে হয়, বিদেশের সভা সেমিনারে যেতে হয়, কথা বলতে হয়। তাই তাদের ইংরেজিটা হতে হয় আন্তর্জাতিক মানের।
কিন্তু তথাকথিত কোটা আর বিভিন্ন নামে কোটার সুবাদে যারা এসব পদে ঢুকেছেন, তাদের দক্ষতা ও ভাষা দক্ষতা দেখলে অবাক হতে হয়। যখন স্কুল. কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, তখন পর্যন্ত এসব আমলাদের প্রতি আলাদা একটা শ্রদ্ধাবোধ ছিলো, কিন্তু যখন কাজের সুবাদে তাদের সংস্পর্শে আসা শুরু করেছি, তখন থেকেই দেখলাম তাদের ইংরেজির দক্ষতা!
আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন যে, এনসিটিবির বইয়ে ভোকাব্যুলারি টেস্টে ওয়ার্ড ম্যাচিং ইংরেজি থেকে ইংরেজি। সেটি সবাই না হলেও অনেক শিক্ষার্থীই কিন্তু পারছে, কারণ এটিই হচ্ছে ন্যাচারাল লার্নিং। তারা যখন ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড মোটামুটি কিংবা ভালোভাবে মেলাতে পারছে, সেটিতে তাদের আন্ডারস্টান্ডিং সলিড হয়।
সেটিই একটি বিদেশি ভাষা শেখার, বিশেষত ইংরেজি শিক্ষার, যতগুলো পদ্ধতি, তার মধ্যে একটি কার্যকর পদ্ধতি। এনসিটিবির বইয়েও অনেকের পরামর্শমতো আওয়ামী আমলে বাংলা অর্থ ও বাংলা দেওয়া ছিলো, যা ইএলটি পদ্ধতির পুরোপুরি বিরোধী। ইংরেজি শিক্ষকগণ যদি এটি না বুঝেন এবং শিক্ষার্থীদের না করান, তাহলে ইংরেজি কী পড়াচ্ছেন? তাদেরকে কি বাংলা পড়াচ্ছেন? এভাবে করলে তো তারা বাংলাও শিখবে না, ইংরেজিও শিখবে না।
কারণ, তারা তো বুঝতেই পারছে না যে, তারা কী করছে আর কী পড়ছে? সবই আপনারা করে দিচ্ছেন। সবই আপনার বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তাহলে শিক্ষার্থীদের কাজ কী? তাদের ইংরেজি ভাষা রপ্ত করতে হবে বিভিন্নভাবে চর্চা করে। তার সবই আপনার করে দিচ্ছেন, তাহলে তারা কী শিখছে?
“প্রতিটি শব্দের সঠিক উচ্চারণসহ অর্থ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ উল্লেখ থাকায় এটি শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে। প্রতিটি শব্দের অর্থ জানা থাকলে তা বোঝা সহজ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বোঝার দক্ষতা বাড়ায়” – এভাবে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝাচ্ছেন আপনারা, ভুল মেসেজ দিচ্ছেন! দেখলাম সরকারি কলেজের শিক্ষকরা এসব কথা বলছেন। এসব দেখে অবাক না হয়ে পারি না!
লেখক পরিচিতি
মাছুম বিল্লাহ বাংলাদেশে ইংলিশ টিচার্স অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্বে ক্যাডেট কলেজ ও রাজউক কলেজের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি ভাব বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। তিনি নিয়মিত শিক্ষাবিষয়ে নানা প্রবন্ধ লিখছেন।


