শিক্ষাতত্ত্ব

শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান: শিক্ষা ও নৃবিজ্ঞানের পারস্পরিক সম্পর্ক

শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান
শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান; ছবিসূত্র: JustScience
লিখেছেন গৌতম রায়

শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান ধারণাটি নতুন নয়, বরং পাঁচ দশকের মতো এর আলোচনার গণ্ডি। ‘৭০-এর গোড়া থেকেই শিক্ষা-নৃবিজ্ঞানের যাত্রা মূলত মার্গারেট মিড-এর হাত ধরে। পরবর্তীতে জর্জ স্পিন্ডলার, সোলোন কিম্বেল এবং ডেল হাইমস যুক্ত হন।

আমরা যদি আলাদা ডিসিপ্লিন হিসেবে নৃবিজ্ঞানকে দেখি, তবে তার একটি অনুষঙ্গ শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান। এটি নৃবিজ্ঞানের শিক্ষা-সংক্রান্ত অনুভাবনাগুলোকে উপস্থাপন করছে। এ-বিষয়ে অবশ্যই নৃবিজ্ঞানের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হলিস্টিক বা সার্বিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেই এবং তা থেকেই অনুসৃত বা উপস্থাপিত।

শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে এটি উঠে আসে ’৭০-এর দিকে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কলেজে শিক্ষকদের আগ্রহ অর্জনের মধ্য দিয়ে। এর নামকরণের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, এই বিশেষায়িত বিষয়টি শিক্ষা নিয়ে কাজ করবে। তবে নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্ঠিভঙ্গির আলোকে, শিক্ষার সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও একইসাথে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা উভয়কেই গুরুত্ব দিবে।

যেহেতু শিক্ষা আমাদেরকে বুঝতে শেখায়— আমরা কে? আর তাই শিক্ষা-নৃবিজ্ঞানের একটি মৌলিক জায়গা হলো কী করে সাংস্কৃতিক রূপান্তর ঘটে থাকে। এই রূপান্তর প্রজন্মান্তরে কীভাবে অর্জিত হয়ে নতুন পরিচয় উপস্থাপন করছে তাও এখানে যুক্ত।

ক্রমে এরসাথে যুক্ত হয়েছে একালচুরেশন প্রসেস, এথনিক আইডেন্টিটি ও পরিবর্তন। তার মানে চর্চার ক্ষেত্রটি ক্রমে ক্রমে বেড়ে পরিপূর্ণ রূপ লাভ করেছে চর্চাকারীদের হাত ধরে।

শিক্ষা কীভাবে গুণগত হয়ে ওঠে

গুণগত শিক্ষা কাকে বলে? কিংবা “ভালো” শিক্ষা কাকে বলে? এ-বিষয়ে সকলেরই মতামত কমবেশি একই হবে। যে বিদ্যালয়ে সকল সুযোগ-সুবিধা আছে, “ভালো” ফল করে, বাজার-উপযোগী দক্ষতা তৈরি করে দিতে পারে, সেগুলোই অনেক বেশিমাত্রায় সামনে চলে আসবে। তাহলে শিক্ষার সেই গুণবাচক চরিত্রটি কোথায়?

কোথায় “শিক্ষিত” শ্রেণির মানবিক মূল্যবোধ ও চরিত্র? শিক্ষাঙ্গনে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধিরা (বিদ্যার্থী ও দানকারী উভয়েই), যে পরিচয় উপস্থাপন করে চলছেন নিয়মিত, তা কি প্রকৃত শিক্ষিতের পরিচয় বহন করে?

যে নৃশংসতা ও দানবীয় চরিত্র নিয়ে শিক্ষাঙ্গনগুলো দাঁড়িয়ে আছে তা কি এর প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে নতুন ভাবনার সূত্রপাত ঘটায় না? আইনস্টাইনের একটি কথা আছে, “সবকিছু সংখ্যায় গণনা করা যায় না, আবার সকল গণনায়ই সংখ্যায় প্রকাশিত নয়”।

সেই বিবেচনায়, শিক্ষার গুণগত মান কখনোই সংখ্যাতাত্ত্বিক উপাত্ত বা শ্রেণি দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং এর পোস্ট-ইফেক্টটিই হলো জরুরি। এই শিক্ষিত সমাজ কী করছে তার ওপরই শিক্ষার মৌলিকতা বা উপযোগিতা বিচার্য।


একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কয়টি কম্পিউটার আছে সেটি গুণে বের করা খুবই সহজ। এমন অনেক বিদ্যালয় আছে যারা হয়তো তাদের সকল শিক্ষার্থীর জন্য কম্পিউটার সুবিধা আছে তা নিয়ে গর্ব করতে পারে। এটা তথ্য হিসেবেও দারুণ হতে পারে। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণমান বিচারের জন্য কিংবা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব “ভাল” শিক্ষা পাচ্ছে তা আদৌ বোঝায় না।


একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কয়টি কম্পিউটার আছে সেটি গুণে বের করা খুবই সহজ। এমন অনেক বিদ্যালয় আছে যারা হয়তো তাদের সকল শিক্ষার্থীর জন্য কম্পিউটার সুবিধা আছে তা নিয়ে গর্ব করতে পারে। এটা তথ্য হিসেবেও দারুণ হতে পারে। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণমান বিচারের জন্য কিংবা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব “ভাল” শিক্ষা পাচ্ছে তা আদৌ বোঝায় না।

বরং যে শ্রেণিকরণের আওতায় শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষিত হচ্ছে, তা সেই শ্রেণিকরণকে ও তাদের নাক সিঁটকানোর সংস্কৃতিকে চিরস্থায়ী করে তোলার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিলো। উপকরণের উপস্থিতি বা অবস্থিতি কতটুকু মান বা গুণ তৈরি করে তা বিচার্য বিষয়। শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান এ-জায়গায় কাজ করতে চায়। জানতে চায় বা বোঝাতে চায় শিক্ষার বহুমাত্রিকতাকে; যেখানে শিক্ষা সর্বজনীন মূল্য তৈরি করতে পারবে।

শিক্ষা-সম্পর্কিত যেকোনো আলোচনায় আপনারা দেখতে পাবেন, যে সূচকগুলো ব্যবহার করা হয়, সবগুলোই তথাকথিত “ভালো” বা “খারাপ” মান বিচারের জন্য উপস্থাপিত। সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিখন দক্ষতা বা বিন্যাসের দক্ষতা। এটি খুব কম দেখা যায় যে, কী ধরনের ভৌত সুবিধা আছে, কোর্সের বিষয়বস্তু কতটুকু শিক্ষার্থীবান্ধব, সেবা, থাকার জায়গা কিংবা পরিবার-সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ইত্যাদি।

মোদ্দা কথা হলো, যা গণনাযোগ্য কেবল তাই-ই উপস্থাপিত হচ্ছে। আর উপস্থাপনযোগ্য শিক্ষা, শিক্ষিতের মানস ও পোস্ট-এডুকেশন স্ট্যাটাস বিচার করে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে শিক্ষা-নৃবিজ্ঞানের অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন— শিক্ষা কীভাবে সাংস্কৃতিক রূপান্তর ঘটায়? 

নৃবিজ্ঞান কখন জরুরি হয়ে ওঠে

আমরা শিক্ষাকে দেখি একটু দূর থেকে। যেমন শিক্ষার অবয়ব। প্রকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠানের চাকচিক্য, নিয়মের বাহাদুরি, ঝকঝকে-তকতকে পরিবেশ, চাকুরির বাজারে নিশ্চয়তা ইত্যাদি। যে কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেশি সুযোগ পাবে, অমুকটা পরে!

কোর্স আউটলাইন, ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা, প্রকাশনা এসব সাধারণ বিষয় বিবেচনার বাইরেই থেকে যায়। তার মানে বাজারের চলতি বিশ্বাস ও ভাবনার সাথে শিক্ষার্থী বেছে নিচ্ছে কোথায় সে পড়বে বা কোন বিষয়ে পড়বে।

আার্থিক সক্ষমতা শিক্ষার আরেকটি ভাবমূর্তি তৈরি করেছে যা শ্রেণি-সংবেদনশীলতা তৈরি করছে। আপাতত এই জায়গাতেই শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান দাঁড়ায় এবং দেখতে চায়— শিক্ষা আদতে কোন পরিবর্তনটি ঘটাতে পারছে।

এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের নৃবিজ্ঞান পাঠ এবং এর সাথে সম্পৃক্ততা হওয়া উচিত প্রাথমিক শিক্ষাস্তর থেকেই। স্বভাবতই প্রশ্ন এসে যাবে , কেন?

একেবারে প্রথম কারণ, অবশ্যই এর দৃষ্টিভঙ্গি ও বিষয় সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার যে অনুভবটি তৈরি করতে পারে শুধু সে কারণেই। দ্বিতীয়ত, আচরণ অনুসন্ধানী বিজ্ঞানগুলোর মধ্যে নৃবিজ্ঞান সেই অংশের আলোচনা সবার আগে করতে চায়, যেটি কারো আলোচনার অংশ নয়। তা হলো, “একটি আপাত বিচ্ছিন্ন এককও আলোচনার বাইরে নয়”, অর্থাৎ হলিস্টিক এ্যাপ্রোচ। এর সাথে অবশ্যই কম্প্যারাটিভ এ্যাপ্রোচ, হিস্টরিকাল এ্যাপ্রোচ ও ইকলজিক্যাল এ্যাপ্রোচ— এই চারের সমন্বয় অবধারিত।

এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ব্যক্তির চরিত্র ও পদ্ধতিগত আচরণ তৈরিতে প্রভাব রাখে। একদেশদর্শী, সঙ্কুচিত, আরোপিত ভাবনার বাইরে জগৎ ও সৃষ্টিকে বিভিন্ন মেটাফোরে দেখা কতোটা জরুরি এই উপলব্ধি নৃবিজ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে পারে।


ধরা যাক স্বাস্থ্য নৃবিজ্ঞান। সেখানে ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে কখনোই রোগ, রোগ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা, ওষুধ, ডাক্তার কিংবা অবকাঠামোগত সুবিধাদি দিয়ে চিন্তা করা হয় না। বরং রোগের সাথে সমাজ, ওই সমাজের মানুষের আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, রিচ্যুয়াল আরও খুটিনাটি বিষয় থাকে।


ধরা যাক স্বাস্থ্য নৃবিজ্ঞান। সেখানে ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে কখনোই রোগ, রোগ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা, ওষুধ, ডাক্তার কিংবা অবকাঠামোগত সুবিধাদি দিয়ে চিন্তা করা হয় না। বরং রোগের সাথে সমাজ, ওই সমাজের মানুষের আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, রিচ্যুয়াল আরও খুটিনাটি বিষয় থাকে।

সেগুলোকে আপাত মনে হতে পারে “কোনো প্রয়োজন নেই”; কিন্তু প্রকৃত অর্থে এগুলোর সাথে রোগের দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। এই যে বহুমাত্রিকতা, বিষয়কে গভীর থেকে দেখার অনুসন্ধিৎসা—এটিই নৃবিজ্ঞান।

আর শিক্ষার্থী যদি এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে যুক্ত হতে পারে তবে সে নিজেও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে অনেকক্ষেত্রেই। আর সে কারণে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিষয়ের বৈচিত্র্যকে বিবেচনায় রেখে নৃবিজ্ঞানের সাধারণ কিছু পাঠ যুক্ত করা যায়। এটি শিক্ষার্থীকে ভাবনার জায়গা তৈরি করে দিতে পারে সহজে। মূলত, শিক্ষাতো সেটাই, যা নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। আর নৃবিজ্ঞান ওই জায়গাতেই প্রশ্ন করতে শেখায়। শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্নটা তৈরি হওয়া জরুরি।

এই সংযুক্তি অবশ্যই নীতি-নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত, যদি তারা এই সম্প্রসারণশীল বিশ্বে নিজেদের গণ্ডি বাড়াতে চায়। তবে যুক্ত করতে হলে ঢালাওভাবে তা করা যাবে না। ইদানিং প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বেশকিছু শ্রেণীতে সমাজ, সমাজের বিকাশ, মানুষ ও তার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের বেড়ে ওঠা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

এই আলোচনাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও বিষয়কে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচকতা তৈরি হওয়ার সুযোগ বাড়বে। এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, নিজেকে অনুসন্ধান ও আবিষ্কার করতে পারার মতো অভিনব অভিজ্ঞতা আর কীই-বা হতে পারে। নৃবিজ্ঞান শিক্ষার্থীকে সে অভিজ্ঞতাই দিতে পারে।

কীভাবে এই অভিজ্ঞতা তৈরি হবে

মূলত কাজের পদ্ধতি ও বিষয়কে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি তাই-ই তৈরি করবে এই সুযোগ। যেমন, নৃবিজ্ঞানের সকল শাখাই চারটি বিশেষ পদ্ধতির সাথে সাজুয্য রেখে কাজ করে। অন্য কোন ডিসিপ্লিন এভাবে চর্চা করে না বা বিষয়কে এভাবে দেখে না।

নৃবিজ্ঞানের এই চারটি পদ্ধতি হচ্ছে: কম্প্যারাটিভ, হিস্টরিক্যাল, ইকলজিক্যাল এবং হলিস্টিক এ্যাপ্রোচ। বিষয়কে নৃবিজ্ঞান এই চারটি মানদণ্ডে দেখতে চায়। অন্যান্য সামাজিক নৃবিজ্ঞান এভাবে দেখে না। সেখানে স্থানিক বিষয়গুলোই বেশি আলোচিত হয়।

ফলে হলিস্টিক এ্যাপ্রোচ যেখানে বলা হচ্ছে কোনো বিষয়কে এমনভাবে দেখা যেখানে বিষয়টি কীভাবে অন্যান্য বিষয়গুলোর সাথে জড়িত। অর্থাৎ প্রতিটি আলাদা বিষয় কীভাবে একটি আরেকটিকে প্রভাবিত করছে, সম্পর্কের মধ্যে কী কী বিষয় সংঘঠিত হচ্ছে। কিংবা এর সাথে সম্পর্কিত অরগ্যানিক ও ইনঅর্গ্যানিক প্রতিষ্ঠান, সম্পর্ক এবং সকল সদস্যদের মধ্যে কী সম্পর্ক বিরাজ করছে এর যাবতীয় বিষয়গুলোই হাজির করে নৃবিজ্ঞান।

কম্প্যারাটিভ এ্যাপ্রোচে আলোচনায়, নৃবিজ্ঞান বিষয়কে শুধু স্থানিক সীমানার উপকরণ বা উদাহরণ দিয়ে দেখে না। বিশ্বব্যাপী এই বিশেষ বিষয়টি কীভাবে বিবেচিত ও উপস্থাপিত হয় তাও দেখা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য বিজ্ঞান শুধু স্থানিক বৈশিষ্ট্যেই সীমাবদ্ধ।

হিস্টরিকাল এ্যপ্রোচে দেখা হচ্ছে, মানব সভ্যতার এবং মানুষের বায়োলজিক্যাল ও সাংস্কৃতিক উভয় পরিবর্তনের চরিত্র ও ধারাকে। সেখানে মানুষ একটি ফেনোমেনন, আরও অনেকগুলো ফেনোমেননের মধ্যে।

ইকলজিক্যাল এ্যাপ্রোচ আলোচনায় একইভাবে আসছে, মানুষের সমাজ ও সভ্যতা-সংস্কৃতি মূলত একটি বৃহৎ প্রাকৃতিক পদ্ধতির অংশ। প্রতিটি ঘটনা ও বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগত প্রাকৃতিক কারণ ও ফলাফল এখানে রয়েছে।

এই চারটি দৃষ্টিভঙ্গিগত উপস্থাপন নৃবিজ্ঞানকে আলাদা করেছে অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞান থেকে। অনন্য করে তুলেছে বিষয়ের উপস্থাপনাকে। আর একারণেই নৃবিজ্ঞান শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর সামাজিক-মানসিক মনোজগত তৈরিতে একটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করতে সক্ষম হবে।


আমাদের নিয়মিত শিক্ষায় গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা বা ইংরেজি অন্তর্ভুক্ত। সেভাবেই নৃবিজ্ঞানের সমাজ ও সভ্যতা এবং সংস্কৃতির ব্যাখ্যা একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠের উপাদান হিসেবে অন্তর্ভূক্তি শুধু নতুন একটি ভাবনার সংযোজন হবে না বরং একটি প্যারাডাইম শিফটিং হবে।


শিক্ষা-নৃবিজ্ঞান শিক্ষার্থীর এই পরিবর্তনটিকেই বলছে একালচুরেশন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক বহুমাত্রিকতার মধ্যে শিক্ষার্থী নিজের ভেতর নতুন কিছু খাপ খাওয়াবে আবার সে নিজেও কিছু বিষয় তৈরি করবে অপরের জন্য।

একটি বিশেষায়িত জ্ঞানকাণ্ড হিসেবে নৃবিজ্ঞান সর্বসাধারণের প্রতিদিনকার শিক্ষার বা ভাবনার উপজীব্য হয়ে ওঠা জরুরি। আমাদের নিয়মিত শিক্ষায় গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা বা ইংরেজি অন্তর্ভুক্ত। সেভাবেই নৃবিজ্ঞানের সমাজ ও সভ্যতা এবং সংস্কৃতির ব্যাখ্যা একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠের উপাদান হিসেবে অন্তর্ভূক্তি শুধু নতুন একটি ভাবনার সংযোজন হবে না বরং একটি প্যারাডাইম শিফটিং হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ-ভাবনাটি তৈরি হওয়া জরুরি যে, মানুষ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একজন সদস্য হিসেবে সাংস্কৃতিক যে বহুময়তার মধ্যে সে বসবাস করে তা একটি সৌন্দর্য্য ও সহনীয় বিষয়। স্থানিক মানুষ থেকে বিশ্বময়তার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রাথমিক পাঠটি তাই শ্রেণীকক্ষেই তুলে আনা উচিত।

সৈয়দ সাখাওয়াৎ: একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক পরামর্শক সহিসেবে কর্মরত।

লেখক সম্পর্কে

গৌতম রায়

গৌতম রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন