বাড়ি ব্যবস্থাপনা ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব আর শিক্ষায় রোডম্যাপ

ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব আর শিক্ষায় রোডম্যাপ

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার দুটো মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়দের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের আশাব্যঞ্জক কথা শুনছি এবং শিক্ষায় মোটামুটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাচ্ছি। ছবিসূত্র: উইকিমিডিয়া কমন্স
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার দুটো মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়দের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের আশাব্যঞ্জক কথা শুনছি এবং শিক্ষায় মোটামুটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাচ্ছি। ছবিসূত্র: উইকিমিডিয়া কমন্স

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার দুটো মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়দের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের আশাব্যঞ্জক কথা শুনছি এবং শিক্ষায় মোটামুটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাচ্ছি। বিষয়গুলো কি আসলেই তাই?

১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষার বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শিক্ষায় নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপের টাইমলাইন ধরে এগোনোর কথা শুনেছি।

প্রথম ধাপ হবে, এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত যেখানে বাজেট প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ, উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক রুট-কজ অ্যানালাইসিস এবং শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন।

ঈদুল ফিতরের পর দ্বিতীয় ধাপ যেখানে জাতীয় শিক্ষায় রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। সেটি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য সূচকসহ।

তৃতীয় ধাপ ১২ থেকে ৩৬ মাসের অর্থাৎ এক থেকে তিন বছর। এ ধাপের কাজের বর্ণনায় বলা হয়, ’তৃতীয় ধাপে আমরা পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় টেকনিক্যাল রি-ফর্ম করবো। কারিগরি, সাধারণ ও মাদরাসা শিক্ষা ব্রিজিং (সেতুবন্ধ) করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ইনোভেশন গ্রান্ট স্কেল আপ করা হবে’।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ”শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানা দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।’ 

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা যখনই কোনো কথা বলেন, তখনই আমরা শুনি শিক্ষায় কিছু একটা ঢেলে সাজাতে হবে। বিষয়টির অর্থ আমি আজও বুঝি না। ঢেলে সাজানো মানে কী?

প্রচলিত শিক্ষায় কোথাও এক ইঞ্চি পরিমাণ পরিবর্তন নিয়ে আসতে চাইলেই হাজারো সমস্যা দেখা দেয়। পুরো ব্যবস্থার ওপর তখন মারাত্মক ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। সেখানে এই ঢেলে সাজানোর মানে কী? ঢেলে সাজাতে হলে সেই প্লানগুলো কী কী?

সেগুলো প্রকাশ করলে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা পক্ষে ও বিপক্ষে মত দিতে পারেন, ফিডব্যাক দিতে পারেন। কিন্তু যখন শুধু বলা হয় ’ঢেলে সাজাতে হবে’, সেটি কে সাজাবে এবং কীভাবে সাজানো হবে সেটি জানা দরকার। কারণ, আমাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা এসব বিষয়ে আমাদের বরং তিক্ততার সৃষ্টি করেছিল যার বিপরীতমুখী ফল আমরা এখনও ভোগ করছি এবং আরও কতকাল ভোগ করতে হবে তা অনিশ্চিত।

শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ’জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এটির অর্থও বুঝি না, কারণ পুরো শিক্ষায় পুলিশের মতো করে এমন ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে যে, কালোটাকা দেয়া ছাড়া কোনো কাজ হয় না। তাঁরা কি সেই ফাঁক-ফোকরগুলো জানেন বা দেখেছেন?

তাহলে তাঁরা যদি বলেন যে, এইসব জায়গায় এভাবে এভাবে দুর্নীতি হচ্ছে, আমরা সেগুলোকে এভাবে ঘুষ ছাড়া সমাধান করছি এবং করবো। তাহলে মানুষ ও শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা একটু হলেও বিষয়টিতে আস্থা রাখতে  পারতেন। এসব কাজে যারা জড়িত তারা এত চতুর যে, এসব কথায় তাদের কিছু আসে যায় না।

আমি ভাব বাংলাদেশে চাকরি করার সময় এনজিও ব্যুরোর লোকজন কীভাবে ঘুষ নিতেন সেখান থেকে জেনেছি। একটি খাতা কিংবা একটি বইয়ের মধ্যে টাকা দিতে হবে, আমার যেসব সহকর্মীরা সেখানে যেতেন তাদের সাথে মোবাইল রাখতে দিতেন না যাতে কোন ছবি তুলতে পারে বা অন্য কোনোভাবে তার প্রমাণ রাখতে পারে।

বিষয়টি তৎকালীন মন্ত্রীকেও জানানো হয়েছিল। তিনি শুধু বলেছিলেন, আমলা যেহেতু সেখানে আছে এ কাজ হবেই। আমি মন্ত্রী কিছু করতে পারবে না।

বর্তমানে শিক্ষায় বরাদ্দ মোট বাজেটের ১২ শতাংশ ও জিডিপির প্রায় দুই শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী এটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে আগামী তিন বছরের জন্য একটি বিশেষ ’ফিসকাল আপলিফট প্লান’ তৈরি করছে সরকার।

অর্থের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষায় এখন থেকে ফল-ভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাজেট বাস্তবায়নে অদক্ষতার সমালোচনা করে বলা হয়, গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত গেছে।

এই পরিস্থিতি বদলাতে অর্থছাড়ের পদ্ধতিকে ক্যালেন্ডার ও মাইলস্টোন-ভিত্তিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষায় উন্নয়ন ব্যয়ের আগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞানাগার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ছাত্রীদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা।

প্রযুক্তিগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ’ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং প্রতিটি উপজেলায় ’রোবোটিক্স ও মেকার কর্ণার’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা (যেমন, আরবি, চীনা, জাপানি বা ফরাসি) পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়।

মুখস্থবিদ্যার বদলে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা যাচাইয়ে পরীক্ষার পদ্ধতিতে ’আইটেম ব্যাংক’ ও ’লার্নিং ট্রাজেক্টরি’ যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ শুধু ডিভাইস নয়, এটিকে শিক্ষায় রিফর্ম উল্লেখ করে বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারে আছে, ফ্রি ওয়াই ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব।

এটি গেজেট প্রজেক্ট নয় বরং তা শিক্ষণ-শেখানোর আপরেটিং সিস্টেম। শিক্ষক ট্যাবের ভেতর থাকবে, পাঠ-পরিকল্পনা টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি ও শিখন-প্রমাণ (লার্নিং এভিডেন্স) আপলোড যাতে শেখা ট্রাক করা যায়।

আমি ব্র্যাক প্রধান কার্যালয়ে কাজ করার সময় দেখেছি ব্র্যাকের মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী ও কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত সবাই এত ডেডিকেটেড ও বাস্তববাদী যে, ব্র্যাক সাধারণত কোনো কাজে হাত দিলে সে কাজ করেই ছাড়ে। সেই ব্র্যাক ২০০৫-৬ সালের দিকে ৭০টি বিদ্যালয়ে ট্যাব দিয়ে শিক্ষায় এক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু বছর দু’য়েক পরে সেই কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়।

একইভাবে, ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর থাকাকালীন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ট্যাব দেয়া হয়েছিলো। ওই ট্যাবের ভেতর টেকস্ট বইয়ের সব বিষয়বস্তুসহ নতুন কিছু ম্যাটেরিয়ালস সংযোজন করা হয়েছিল কিন্তু বছরখানেক পরে সেটিকেও বাদ দিতে হয়।

প্রতিদিন মাঠপর্যায় থেকে প্রচুর সমস্যা আসতো। কাজের চেয়ে ঝামেলাই ছিলো বেশি। এনজিওর কর্মীরা অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, প্রতিটি বিদ্যালয়ের সাথে এক-দুজন করে কর্মী সার্বক্ষণিক লেগে থাকেন। তারপরেও ওই ট্যাবভিত্তিক কাজ শিক্ষায় কোনোভাবেই কার্যকর হয়নি।

সরকার সেটিকে কীভাবে করবে বুঝতে কষ্ট হয়, কারণ সরকারের কর্মকর্তা উপজেলা পর্যন্ত শেষ। অথচ একটি উপজেলায় কয়েকশত মাধ্যমিক ও কয়েকশত প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকে। আমাদের প্রধান শিক্ষকদের তো সেভাবে ক্ষমতায়িত করা হয়নি যে, শিক্ষা কর্মকর্তাদের দেখভাল করা ছাড়া তারা সবকিছু করে ফেলবেন। 

সর্বোপরি শিক্ষায় অর্থ একটি বিরাট ব্যাপার! ওই ট্যাবভিত্তিক শিক্ষায় যে বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটিতে আমরা কতোটা প্রস্তত আছি সে প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে।

এরপর এখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত বিষয় জড়িত। কারণ এমনিতেই সারাদিন এবং গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। ফলে, অনেকের চোখের সমস্যা হচেছ, সামাজিকভাবে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। মানসিকভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এসব ডিভাইস ব্যবহারের কারণে।

সেখানে আবার যদি একই ধরনের ডিভাইসে আসক্ত করার পদ্ধতি চলে আসে, সেটি শিক্ষায় আরেক ধরনের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ কিছু উন্নত দেশও ইতোমধ্যে ডিভাইসভিত্তিক শিক্ষাদানের নেগেটিভ দিক বেশি হওয়ায় তারা পুনরায় কাগজ-কলমের শিক্ষায় চলে এসেছে। এসব বিষয় আমাদের চিন্তায় থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন বলেছেন, ”মূল ধারায় গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ভাষা, ইতিহাস ইত্যাদি থাকে। গত সরকার তিন বিজ্ঞানকে একীভূত করে কারিগরি বিষয়কে মূল ধারার শিক্ষায় নিয়ে এসেছিল। এখন এই সরকারের মুখেও একই রকম আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আবার শুনছি তৃতীয় আরেকটি ভাষা যোগ করবে। আবার শুনছি মাধ্যমিকে কোন বিভাজন থাকবে না। আমি বুঝতে পারছি না এই সরকারও কেনো সেই আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া পথে যাচ্ছে”।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই সরকার আগের আওয়ামী লীগ সরকারের মতো শিক্ষার মূল ধারাকে কারিগরি ধারার দিকে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে। অথচ আমাদের আলাদা স্বাধীন কারিগরি শিক্ষা অলরেডি আছে। সেই কারিগরি শিক্ষা ধারাকে শক্তিশালী না করে কেনো মূল ধারাকে কারিগরি ধারার দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা কেনো করছে বুঝতে পারছি না। মূল ধারাকে কেনো কারিগরির দিকে নিতে হবে?’’

আমরা শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা জানি যে, গত চারমাস ধরে শিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদটি শূন্য অর্থাৎ অভিভাবকহীনভাবে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। মাউশির অধীনে প্রায় ৪০ হাজার সরকারি বেসরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। শিক্ষায় প্রতিদিন শত শত কাজ ও সিদ্ধান্ত চলছে অভিভাবকহীনভাবে।

এগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ( ডিআইএ)। অথচ এই দপ্তররের  ৫৯টি পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য।

এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী গত আঠারো মাসে পরিবর্তন হয়েছে চারবার। গত প্রায় দশমাস ধরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য। প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকায় এনসিটিবির ঝিমিয়ে পড়ার  সুযোগে এবারও নিম্নমানের কাগজে বই ছেপেছে ৬০টিরও বেশি ছাপাখানা।

সেই ভোগা ভুগছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কারণ বই মাস দুয়েক পড়ে ছিঁড়ে যাবে তখন তারা বই ছাড়া কিংবা গাইড বই নিয়ে ক্লাসে যাবে। ছাপাখানার মালিকরা তো বুঝে কখন ও কীভাবে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় বড় পদগুলো অতিরিক্ত আর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা চালানো হচ্ছে।

মাউশির ডিজি ও এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদ অলংকৃত করার সঠিক কোনো মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া এখনও জাতির কাছে অজানা। জাতি জানে যে, এসব পদে পদায়ন পেতে হলে প্রভাবশালী কোনো মন্ত্রী-এমপির আত্মীয় হতে হয়, না হয় ক্ষমতাসীন দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হতে হয়।

অর্থাৎ পদদুটোকে সবাই ’পলিটিক্যাল পোস্ট’ বলেই জানেন এবং সেভাবেই ধ্যান-জ্ঞান করে থাকেন। তাতে কোনো দলের বা ব্যক্তির স্বার্থলাভ হতে পারে কিন্তু শিক্ষায় কিছুই হয় না। তাই মনে হচ্ছে, শিক্ষা নিয়ে কতো পরিকল্পনা কতো আশার কথা শুনছি, কিন্তু শিক্ষা প্রশাসনের যে বিশাল বহর সেই বহরের রুটিন কাজ করার লোকই থাকে না বছরের পর বছর। পরিকল্পনাগুলো কারা কীভাবে বাস্তবায়ন করবে?

অভিভাবক না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানগুলো চলে বৈঠাবিহীন নৌকার মতো। অধিদপ্তর থেকে উপজেলা পর্যন্ত যত হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন তাদের ঠিকভাবে পদায়ন, দেখভাল, এবং তাদের কাজ যদি কিছুট হলেও তদারকি করা যায় তাহলে শিক্ষায় অনেক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকে।

কিন্তু এসব জায়গা পুরো ঠিক থাকে না কখনও, অথচ আমরা নতুন নতুন শব্দ ও ভাষা শুনতে পাই শিক্ষায় বিপ্লব ঘটানোর। প্রকৃতপক্ষে সেগুলো আমাদের কতটা আশাবাদী করতে পারে?

লেখক পরিচিতি

মাছুম বিল্লাহ বাংলাদেশে ইংলিশ টিচার্স অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্বে ক্যাডেট কলেজ ও রাজউক কলেজের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি ভাব বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। তিনি নিয়মিত শিক্ষাবিষয়ে নানা প্রবন্ধ লিখছেন।

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Exit mobile version